সর্বশেষ

বাংলা সাহিত্য

নজরুলের কবিতার মেটামরফোসিস : নজরুল-মানসের এক চিরন্তন অভিসার

বাংলা সাহিত্যের আকাশে কোনো এক ধূমকেতুর মতো তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল—সে কথা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু সেই ধূমকেতুটি যখন শান্ত হয়ে এক নিস্তরঙ্গ মহাসাগরে গিয়ে মিশল, সেই রূপান্তরের খবরটি কি আমরা ঠিকঠাক অনুধাবন করতে পেরেছি? কাজী নজরুল ইসলাম কেবল এক অস্থির যৌবনের নাম নয়, তিনি আসলে এক সুগভীর আধ্যাত্মিক ও শৈল্পিক যাত্রার পথিক, যা শুরু হয়েছিল রণতুর্যের হুঙ্কারে আর শেষ হয়েছিল এক অব্যক্ত মৌনতায়। তাঁর এই জীবন-ভ্রমণকে নিছক কাব্য-বিবর্তন বললে হয়তো ভুল হবে; এটি ছিল একটি আত্মার ক্রমাগত নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার এক আশ্চর্য ইতিহাস।

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
ধুলোমাটির মহাকাব্য: নজরুলের গদ্যবিশ্ব ও সাম্যবাদী নন্দনতত্ত্বের অন্তর্বয়ন

বাংলা সাহিত্যের দিগন্তে কাজী নজরুল ইসলাম যখন ধূমকেতুর মতো উদিত হলেন, তখন চারদিকে এক থমথমে নিস্তব্ধতা। সেই নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে দিয়ে তিনি যে কেবল কবিতার ছন্দে ঝংকার তুলেছিলেন তা নয়, তাঁর গদ্যের শরীর থেকেও ঠিকরে বেরিয়েছিল এক অপ্রতিরোধ্য আলোর ঝিলিক। নজরুলকে আমরা বড় বেশি ‘বিদ্রোহী কবি’র ছাঁচে বেঁধে ফেলেছি। অথচ তাঁর গদ্যের গভীরে যে কত বড় এক দার্শনিক প্রান্তর ধুধু করছে, কত নিবিড় মমতায় তিনি মানুষের জীবনের অলিগলি ছুঁয়ে গেছেন, তা কি আমরা যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে দেখেছি? তাঁর গদ্য কেবল শব্দের পিঠে শব্দ সাজানো নয়; তা যেন এক লহমায় অগ্নিগিরির উত্তপ্ত লাভা, আবার পরক্ষণেই শ্রাবণের মেঘমুক্ত আকাশের স্নিগ্ধতা।

ধুলোমাটির মহাকাব্য: নজরুলের গদ্যবিশ্ব ও সাম্যবাদী নন্দনতত্ত্বের অন্তর্বয়নধুলোমাটির মহাকাব্য: নজরুলের গদ্যবিশ্ব ও সাম্যবাদী নন্দনতত্ত্বের অন্তর্বয়ন

কাজী নজরুল ইসলামের গদ্য কেবল বিদ্রোহের ভাষ্য নয়; এর গভীরে রয়েছে মানুষের মুক্তি, সাম্য, প্রেম, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও অস্তিত্বসংকটের এক শক্তিশালী নন্দনতত্ত্ব। ‘বাঁধন হারা’, ‘মৃত্যুক্ষুধা’, ‘কুহেলিকা’, ‘যুগবাণী’ ও ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’র আলোকে তাঁর গদ্যবিশ্বে সাম্যবাদী চেতনা ও মানবমুক্তির অন্তর্লীন সুর বিশ্লেষণ করেছেন গাউসুর রহমান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রতি গভীর মমতা ও সাম্যের চেতনায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অনন্য অবদান রাখা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

গোলাম সামদানী কোরায়শীশিকড় ও ডানার দ্বান্দ্বিকতায় এক অনন্য আলোকবর্তিকা

গোলাম সামদানী কোরায়শীর জীবনকাহিনি পড়লে মনে হয়, তিনি যেন একাই এক মহাকাব্যিক বৈপরীত্যের সুন্দর সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। ভাবলে অবাক হতে হয়, একাধারে তিনি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘কামিল’ অর্জন করছেন প্রাচীন ধ্রুপদী জ্ঞানে অবগাহন করতে করতে, আবার অন্যদিকে বামপন্থী দর্শনের প্রগতিশীল আগুনে পুড়িয়ে নিচ্ছেন নিজের চেতনাকে। এই যে দুই মেরুর সহাবস্থান এটি কি কেবলই তাত্ত্বিক মিলন ছিল? নাকি ছিল এক গভীর সাধনার ফল? বিশ শতকের বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক মানচিত্রে তাকালে দেখা যায়, ধর্মতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব প্রায়ই একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকত। কিন্তু কোরায়শী ছিলেন সেই বিরল পথিক, যিনি এই দুই আপাত-বিপরীত পথের মাঝখানে এক শৈল্পিক ও যৌক্তিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন।

শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথবিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবসে অতল শ্রদ্ধা!

শিলাইদহের কুঠিবাড়ী ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের প্রপিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুরের নামে ক্রয় করেন ঠাকুরবাড়ীর জমিদারী। এরপরের ইতিহাস কমবেশী অনেকের জানা। রবীন্দ্রনাথ ‘ছিন্নপত্রে’ ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর দাদার সাথে রেলগাড়ীতে চড়ে প্রথমে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে আসার কথা উল্লেখ করেছেন এবং ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে শিলাইদহের জমিদারী ভার গ্রহণ করেন।